সুরা আল-ইনশিরাহ
পবিত্র কুরআনের যে সুরাটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দিয়েছিল, সেটি হলো সুরা আল-ইনশিরাহ (বা সুরা আলাম নাশরাহ)।
১. সুরা আল-ইনশিরাহ (আয়াত ১-৮)আয়াত (আরবি)উচ্চারণ (বাংলা)অর্থ (বাংলা)أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَআলাম নাশরাহ লাকা সাদরাক।আমি কি আপনার বক্ষ আপনার কল্যাণে উন্মুক্ত করে দেইনি?وَوَضَعْنَا عَنكَ وِزْرَكَওয়া অয়াদ্বা‘না ‘আনকা ওযরাক।এবং আমি আপনার থেকে আপনার বোঝার ভার নামিয়ে দিয়েছি,الَّذِي أَنقَضَ ظَهْرَكَআল্লাযী আনক্বাদ্বা যাহরাক।যা আপনার পিঠ ভেঙে দিচ্ছিল।وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَঅয়ারাফা‘না লাকা যিকরাক।আর আমি আপনার স্মরণকে (মর্যাদাকে) সমুন্নত করেছি।فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًاফাইন্না মা‘আল ‘উসরি ইউসরা।নিশ্চয় কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে।إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًاইন্না মা‘আল ‘উসরি ইউসরা।নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে।فَإِذَا فَرَغْتَ فَانصَبْফাইযা ফারাগতা ফানসাব।অতএব, আপনি যখনই কাজ শেষ করেন, তখনই ইবাদতে ব্রতী হোন।وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَارْغَبওয়া ইলা রাব্বিকা ফারগাব।এবং আপনার পালনকর্তার প্রতি মনোনিবেশ করুন।২. নামকরণ ও প্রেক্ষাপটনামকরণ: সুরার প্রথম আয়াতের 'নাশরাহ' বা 'ইনশিরাহ' (অর্থ: প্রশস্ত করা) শব্দ থেকে এর নাম নেওয়া হয়েছে।প্রেক্ষাপট: এটি একটি মাক্কি সুরা। নবুওয়াতের শুরুর দিকে যখন ইসলাম প্রচারের কারণে চারপাশ থেকে চরম বাধা ও মানসিক চাপ আসছিল, তখন রাসুল (সা.)-কে সাহস ও সান্ত্বনা দিতে এটি নাজিল হয়।৩. এই সুরার বিশেষ শিক্ষামানসিক প্রশান্তি: আল্লাহ তাঁর নেক বান্দাদের অন্তরকে সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে প্রশস্ত করে দেন।কষ্টের পর সুখ: ৫ ও ৬ নং আয়াতে আল্লাহ জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রতিটি কষ্টের সাথে অবশ্যই সহজতা বা স্বস্তি আছে। এটি হতাশ না হওয়ার বড় একটি ঘোষণা।ব্যস্ততার মাঝেও আল্লাহ: দুনিয়ার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই অলসতা না করে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।মর্যাদা বৃদ্ধি: আল্লাহ যাকে কবুল করেন, তাঁর মর্যাদা তিনি পৃথিবীর সবার ওপরে তুলে ধরেন।৪. রিলেটেড তথ্য ও ফজিলতশারহুস সদর: অনেক মুফাসসিরের মতে, প্রথম আয়াতে 'বক্ষ উন্মুক্ত করা' বলতে নবীজি (সা.)-এর বক্ষ বিদীর্ণ করার অলৌকিক ঘটনাকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে।হাদিসের শিক্ষা: রাসুল (সা.) বলেছেন, "একটি কষ্ট কখনো দুটি স্বস্তির ওপর জয়ী হতে পারবে না" (কারণ আল্লাহ এক কষ্টের সাথে দ্বিগুণ সহজতার ইঙ্গিত দিয়েছেন)।
অবশ্যই, সুরা আল-ইনশিরাহ-এর প্রতিটি আয়াতের শব্দভিত্তিক অর্থ (Word-by-word) নিচে সুন্দরভাবে দেওয়া হলো:সুরা আল-ইনশিরাহ: শব্দার্থ (Word-by-Word)আয়াত নম্বরআরবি শব্দ (Word)বাংলা উচ্চারণবাংলা অর্থআয়াত-১أَلَمْ (আলাম)আলামআমি কি ...নি? (প্রশ্নবোধক)نَشْرَحْ (নাশরাহ)নাশরাহউন্মুক্ত/প্রশস্ত করাلَكَ (লাকা)লাকাআপনার জন্যصَدْرَكَ (সাদরাক)সাদরাকআপনার বক্ষ/অন্তরআয়াত-২وَوَضَعْنَا (ওয়া অয়াদ্বা‘না)ওয়া অয়াদ্বা‘নাএবং আমি নামিয়ে দিয়েছিعَنكَ (আনকা)‘আনকাআপনার থেকেوِزْرَكَ (ওযরাক)ওযরাকআপনার বোঝা/ভারআয়াত-৩الَّذِي (আল্লাযী)আল্লাযীযাأَنقَضَ (আনক্বাদ্বা)আনক্বাদ্বাভেঙে দিচ্ছিল/নুজ্য করেছিলظَهْرَكَ (যাহরাক)যাহরাকআপনার পিঠআয়াত-৪وَرَفَعْنَا (ওয়ারাফা‘না)ওয়ারাফা‘নাএবং আমি সমুন্নত করেছিلَكَ (লাকা)লাকাআপনার জন্যذِكْرَكَ (যিকরাক)যিকরাকআপনার স্মরণ/খ্যাতিআয়াত-৫فَإِنَّ (ফাইন্না)ফাইন্নানিশ্চয়ই / অতঃপর নিশ্চয়ইمَعَ (মা‘আ)মা‘আসাথেالْعُسْرِ (আল-‘উসরি)আল-‘উসরিকষ্ট/কঠিন অবস্থাيُسْرًا (ইউসরা)ইউসরাস্বস্তি/সহজতাআয়াত-৬إِنَّ (ইন্না)ইন্নানিশ্চয়ইمَعَ (মা‘আ)মা‘আসাথেالْعُسْرِ (আল-‘উসরি)আল-‘উসরিকষ্টيُسْرًا (ইউসরা)ইউসরাস্বস্তি/সহজতাআয়াত-৭فَإِذَا (ফাইযা)ফাইযাসুতরাং যখনفَرَغْتَ (ফারাগতা)ফারাগতাআপনি অবসর পানفَانصَبْ (ফানসাব)ফানসাবমেহনত/ইবাদত করুনআয়াত-৮وَإِلَىٰ (ওয়া ইলা)ওয়া ইলাএবং অভিমুখেرَبِّكَ (রাব্বিকা)রাব্বিকাআপনার পালনকর্তাفَارْغَب (ফারগাব)ফারগাবমনোনিবেশ করুনগুরুত্বপূর্ণ নোট:এই সুরাটি আমাদের শেখায় যে, জীবনের কোনো কঠিন সময় চিরস্থায়ী নয়। ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে 'আল-উসর' (নির্দিষ্ট কষ্ট) এর বিপরীতে 'ইউসরা' (অনির্দিষ্ট অনেক সহজতা) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর গভীর অর্থ হলো— আল্লাহ জীবনে একটি সমস্যা দিলে তার সমাধানের জন্য অনেকগুলো পথ খুলে দেন।