সুরা- আদ-দ্বোহা
আল-কুরআনের অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী এবং সান্ত্বনাদায়ক একটি সুরা হলো সুরা আদ-দুহা।
১. সুরা আদ-দুহা (আয়াত ১-৫)আয়াত (আরবি)উচ্চারণ (বাংলা ও ইংরেজি)অর্থ (বাংলা ও ইংরেজি)وَالضُّحَىٰবাংলা: ওয়াদ্দুহা।English: Wad-duhaa.শপথ পূর্বাহ্নের (রোদ্রোজ্জ্বল সকাল)।By the morning brightness.وَاللَّيْلِ إِذَا سَجَىٰবাংলা: ওয়াল্লাইলি ইযা সাজা।English: Wal-layli izaa sajaa.এবং শপথ রাত্রির যখন তা গভীর ও নিঝুম হয়।And [by] the night when it covers with darkness.مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَىٰবাংলা: মা ওয়াদ্দা‘আকা রাব্বুকা ওয়ামা ক্বালা।English: Maa wadda'aka Rabbuka wa maa qalaa.আপনার পালনকর্তা আপনাকে ত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি অসন্তুষ্টও হননি।Your Lord has not taken leave of you, [O Muhammad], nor has He detested [you].وَلَلْآخِرَةُ خَيْرٌ لَّكَ مِنَ الْأُولَىٰবাংলা: ওয়ালাল আখিরাতু খায়রুল্লাকা মিনাল ঊলা।English: Wa lal-aakhiratu khayrul laka minal oolaa.আপনার জন্য পরবর্তী সময় (পরকাল) পূর্ববর্তী সময়ের (দুনিয়া) চেয়ে শ্রেয়।And the Hereafter is better for you than the first [life].وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰবাংলা: ওয়ালা সাউফা ইউ‘তীক্বা রাব্বুকা ফাতারদা।English: Wa la-sawfa yu'teeka Rabbuka fatardaa.আর শীঘ্রই আপনার পালনকর্তা আপনাকে (এত বেশি) দেবেন যে আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।And your Lord is going to give you, and you will be satisfied.
২. শব্দার্থ (Word-by-Word Meaning)
وَ (ওয়া): এবং / শপথ (contextual)।
الضُّحَىٰ (আদ-দুহা): পূর্বাহ্ন বা সকালের রোদ।
اللَّيْلِ (আল-লাইল): রাত।
إِذَا (ইযা): যখন।
سَجَىٰ (সাজা): নিঝুম হওয়া / অন্ধকার আচ্ছন্ন হওয়া।
مَا وَدَّعَكَ (মা ওয়াদ্দা‘আকা): তিনি আপনাকে ছেড়ে যাননি।
رَبُّكَ (রাব্বুকা): আপনার পালনকর্তা।
قَلَىٰ (ক্বালা): ঘৃণা করা বা অসন্তুষ্ট হওয়া।
خَيْرٌ (খায়রুন): উত্তম / কল্যাণকর।
يُعْطِيكَ (ইউ'তীক্বা): তিনি আপনাকে দান করবেন।
فَتَرْضَىٰ (ফাতারদা): অতঃপর আপনি সন্তুষ্ট হবেন।
৩. নামকরণ ও নাজিলের সময়কাল
নামকরণ: সুরার প্রথম শব্দ 'আদ-দুহা' (পূর্বাহ্ন) থেকেই এর নামকরণ করা হয়েছে।
নাজিলের সময়কাল: এটি একটি মাক্কি সুরা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াতের শুরুর দিকে যখন কিছুদিন ওহী আসা বন্ধ ছিল, তখন কাফেররা উপহাস করে বলেছিল, "মুহাম্মাদের রব তাকে ত্যাগ করেছেন।" তখন রাসুল (সা.)-এর মনঃকষ্ট দূর করতে এই সুরাটি নাজিল হয়।
৪. শিক্ষা ও তাৎপর্য
১. আল্লাহর প্রতিশ্রুতি: আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের কখনো বিপদ বা একাকীত্বে ছেড়ে দেন না।
২. ধৈর্যের ফল: জীবনের কঠিন সময়ের পর অবশ্যই সুখের দিন আসে, যেমন রাতের অন্ধকারের পর ভোরের সূর্য ওঠে।
৩. আখিরাত বনাম দুনিয়া: মুমিনের জন্য দুনিয়ার কষ্টের চেয়ে আখিরাতের চিরস্থায়ী সুখই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
৪. কৃতজ্ঞতা: আল্লাহ নবীজি (সা.)-কে যে নেয়ামত দিয়েছেন এবং দেবেন, তা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করার শিক্ষা রয়েছে।
৫. রিলেটেড হাদিস ও আয়াত
হাদিস: ইমাম বুখারি (রহ.) বর্ণনা করেন, জিবরাঈল (আ.) ওহী নিয়ে আসতে দেরি করায় মুশরিকরা বলতে লাগল, "মুহাম্মাদের শয়তান তাকে ছেড়ে গেছে।" তখন আল্লাহ তাআলা এই সুরা নাজিল করেন: "আপনার পালনকর্তা আপনাকে ত্যাগ করেননি এবং অসন্তুষ্টও হননি।" (সহিহ বুখারি)
সম্পর্কিত আয়াত: কুরআনের অন্য জায়গায় আল্লাহ কষ্টের সাথে স্বস্তির ঘোষণা দিয়ে বলেছেন—
"নিশ্চয় কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে।" (সুরা আল-ইনশিরাহ: ৫)
একটি বিশেষ নোট: ৫ নং আয়াতে আল্লাহ যে 'সন্তুষ্ট করার' প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা নবীজি (সা.)-এর শাফায়াত (সুপারিশ)-এর অধিকারকেও ইঙ্গিত করে বলে মুফাসসিরগণ মনে করেন।